মাছ চাষ করে আমরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারি। মাছ সকলের নিকট খুব প্রিয় খাদ্য। অন্যান্য খাবারের সাথে সকলের দৈনিক মাছ খাওয়া উচিত। মাছের বর্তমান উৎপাদন আমাদের চাহিদার তুলনায় অনেক কম। তাই নিজেদের জলাশয়ে মাছ চাষ করে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পুরণ করতে হবে। তাছাড়া অতিরিক্ত উৎপাদিত মাছ বাজারে বিক্রি করে নগদ অর্থ আয় করা যায়। আমাদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ, কাজের সুযোগ সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং সামাজিক উন্নয়নে মাছ চাষের গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে মাছের অর্থনৈতিক গুরুত্ব আলোচনা করা হলো:
পুষ্টির চাহিদা পূরণ: আমাদের প্রতিদিনের খাবার তালিকায় আমিষের প্রধান উৎস হচ্ছে মাছ। এটি একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার। আমাদের দৈহিক বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধের জন্য আমিষ দরকার। একজন পূর্ণ বয়স্ক লোকের দৈনিক ৩৩ থেকে ৬৬ গ্রাম আমিষ জাতীয় খাবারের প্রয়োজন হয়। আমিষের মধ্যে প্রাণিজ আমিষ উৎকৃষ্ট মানের। কিন্তু বর্তমানে আমরা প্রাণিজ আমিষের চাহিদার তুলনায় কম খেয়ে থাকি। মাছ চাষের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়িয়ে প্রাণিজ আমিষের অভাব দুর করা সম্ভব। তাই মাছ চাষ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

| কাজ: পুষ্টির চাহিদা পূরণে মাছের গুরুত্ব সম্পর্কে দলগত কাজ করে পোস্টার পেপারে উপস্থাপন কর। |
এ ছাড়াও মাছের তেল দেহের জন্য উপকারী। বিভিন্ন জাতের ছোট মাছ যেমন- মলা, ঢেলা, কাচকি মাছে প্রচুর ভিটামিন 'এ' পাওয়া যায়। ভিটামিন 'এ' রাতকানা রোগ দূর করে। মাছের কাঁটায় প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস পাওয়া যায়, যা দেহের হাড় গঠনে সাহায্য করে।
জীবিকার উৎস: বাংলাদেশে প্রায় ১২ মিলিয়ন মানুষ মাছ থেকে বিভিন্নভাবে জীবিকা নির্বাহ করে। যেমন- মাছ চাষ, মাছ ধরা, বিক্রয় ইত্যাদি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে আমাদের দেশে কাজের সুযোগ কমে যাচ্ছে। মাছ চাষের মাধ্যমে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।

বৈদেশিক মুদ্রা আয়: মাছ বিদেশে রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। মৎস্য সম্পদ রপ্তানি করে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়, তার শতকরা প্রায় ৮৬ ভাগই আসে চিংড়ি থেকে। মাছ চাষ বৃদ্ধি করে এ আয় আরও বাড়ানো সম্ভব।
আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন: বাংলাদেশে অনেক পতিত পুকুর, ডোবা ও নালা রয়েছে, যেখানে মাছ চাষ করা হয় না। এসব জলাশয়ে মাছ চাষ করে গ্রামের গরিব ও স্বল্প আয়ের লোকেদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটানো সম্ভব।
নতুন শব্দ: জলাশয়, আমিষ।
Read more